বহু বছর পূর্বে চারজন প্রবীণ ব্যক্তি কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন। প্রথম জনের মন দুঃখে ভারাক্রান্ত ছিল এবং এই দুঃখজনক পারিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি আরো প্রগতি ও সাফল্য চাইছিলেন। তৃতীয় ব্যক্তি জীবনের অর্থ জানতে চাইছিলেন। প্রথম ব্যক্তির সবধরণের জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কিছুর অভাব বোধ করছিলেন এবং তিনি জানতেন না সেটি কি।
সুতরাং এই চার ব্যক্তি তাঁদের উত্তরের সন্ধানে ঘুরতে লাগলেন এবং অবশেষে তাঁরা একটি জায়গায় উপস্থিত হলেন যেখানে একটি বটবৃক্ষ ছিল। সেই বটবৃক্ষের নীচে মুখে প্রশস্ত হাসি নিয়ে এক যুবক বসে ছিলেন এবং হঠাৎই সকলের মনে হল এই ব্যক্তিই হয়তো তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। চারজনই ভাবলেন ইনিই তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। বটবৃক্ষের নীচে বসে থাকা হাসিমুখের সেই যুবকটি একটি কথাও বললেন না হাসিমুখের যা চেয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলেন।
এইটিই গুরু পূর্ণিমার প্রথম কাহিনী। সেইদিনটিতে পূর্ণিমা ছিল এবং এইভাবেই গুরু পরস্পরা শুরু হয়| এই চারজন প্রবীণ ব্যক্তিই গুরুর পদ লাভ করেছিলেন।
তাঁরা যা চেয়েছিলেন তা পেয়েছিলেন:
- দুঃখ অন্তর্হিত হয়েছিল
- অপর্যাপ্ত প্রাপ্তি ও আনন্দ এসেছিল
- অন্বেষণের সমাপ্তি ঘটেছিল
- তাঁরা গুরুকে লাভ করে নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন
চতুর্থ জনের সমগ্র জ্ঞান থাকলেও কোন গুরু না থাকায় সংযোগ স্থাপিত হয়নি। অবশেষে গুরুর সঙ্গে তাঁর অন্তর্নিহিত সংযোগ ঘটল।
সেই কারণে আদি শঙ্করাচার্য বলেছিলেন “মৌন ব্যাখযা প্রকাতিথযপরা ব্র্ম তত্বমু যুভানমI” (অথ: আমি দক্ষিণা মূর্তির (প্রথম গুরু) স্তুতি কারি এবং অভিবাদন কারি যিনি তাঁর মৌনতার মধ্যদিয়ে পর ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছিলেন)!
গল্পটির প্রতীকী রূপ
গল্পটিতে শিক্ষক তরুণ ছিলেন কারণ আত্মাও চির নবীন অপর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রবীণ ছিলেন। এটির সাথে কতগুলি উপমা যুক্ত রয়েছে। অনুসন্ধিংসা আপনাকে প্রবীণ করে তোলে। পার্থিব জগতের খোঁজ অথবা মুক্তির খোঁজ বা যেকোনো খোঁজ আপনার বয়স এগিয়ে নিয়ে যায়। সুতরাং শিষ্যরা প্রবীণ ছিলেন কিন্তু গুরু ছিলেন নবীন।
বটবৃক্ষের উপমা দেওয়ার অর্থ কি? বটবৃক্ষ কোন সাহায্য ছাড়াই বেড়ে ওঠে-এই বৃক্ষের বৃদ্ধির জন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। বটগাছের বীজ যদি কোন পাথরের ফাটলের মধ্যেও পড়ে , স্বল্প জলেও সেটি বেডে ওঠে সামান্য মাটি এবং সামান্য জলই তার বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট-কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটুকুও প্রয়োজন হয় না। এবং একটি বটগাছ সবসময় অক্সিজেন প্রদান করে। এটি এমন গাছ যেটি চব্বিশ ঘণ্টাই অক্সিজেন দিয়ে যায়| গুরুতত্ত্বের সাথে এর উপমা দেওয়ার কারণ এটি যে এই বৃক্ষটিও তার সবকিছু ক্রমান্বয়ে দান করে চলে।
“গুরু” র অর্থই হ’ল যিনি সব অন্ধকার, দুঃখ, একাকিত্ব ও অভাব দূর করে প্রাচুর্যে ভরিয়ে তোলেন কারণ অভাবটি শুধু আমাদের মনের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং একজন গুরু অভাব দূর করে মুক্তি প্রদান করেন।





